Sunday, September 26, 2010

****** আপা

******আপা,****** আপা
হাসিকেন মাপা মাপা,
কোনএকটা মাছের মত
তোমারহাসি একটু চাপা

ক্ষমতায় আসার পরই তোমার
ভরলো দুটা গাল,
তোমার চাপার জোর বাতাসে
ফুললো নৌকার পাল

তোমার চাপার জোর বাতাসে
দেশবাসী থর থর,
তোমার গলার আওয়াজ শুনে
করে উঠে ধর মর

মিথ্যে বুলির জাহাজ তুমি,
ধন্য তোমার মুখ,
কেবল তুমি চাপার জোরেই
ভরালে দেশের বুক

আপা, তুমি কত পড়?
জোয়ার উঠেছে নলেজের?
ডিগ্রীর মালা দিতে বিদেশী
লাইন লেগেছে কলেজের

তোমার জ্ঞানের জোয়ারে তো
ভেসে গেল দেশটা,
ছাত্ররা সব কলম রেখে
উঠে গেল শেষটা

ভাল্লাগে না, ভাল্লাগে না
এর বেশি আর পড়তে
অস্ত্র হাতে উঠলো ওরা
‘খেলাধুলা’ করতে

তোমার বুকের সোনার মানিক
ধন্য ওদের বল
‘খেলা’ দেখার ভয়ে সবাই
আতঙ্কে টলমল

‘ভয় পেওনা, ভয় পেওনা
খেলা বাকি আছে’,
‘এক এক করে দেখিয়ে যাবো
ভয় পেওনা পাছে’

আচ্ছা আপা, ইচ্ছে তোমার
অভিনয়ে তুমি নামবে?
এত এত ডিগ্রীর পরেও
অস্কারও কাছে টানবে?

মা বাপ কেউ নেই বলে কেন
মঞ্চে উঠেই কাঁদ ?
আচ্ছা আপা, ভোরে উঠে
রোজই কি গলা সাধ ?

শান্তি তুমি আনছ ফিরে
এই দেশেরই বুকে
তাই তো ওরা মাতম করে
কাঁদছে মনের সুখে

কত মায়ের বুক থেকে আর
কাড়বে বুকের ধন ?
দেশটা বিরান করেই দেবে
এই করেছ পণ?

আচ্ছা বুবু, দিল্লী থেকে
কত বেতন পাও মাসে ?
এদিক অধিক থেকেও
তোমার কত ইনকাম আসে ?

ধন্য আপা, ধন্য বুবু
ধন্য তোমার শোক
দেশের **ছায় বাঁশ দিয়া কও
দেশ চিরজীবী হোক

-------------------------------------------------------------
[লেখক জীবনেরমায়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক]
রচনা: ২৫শে এপ্রিল, ২০০০
রিলিজ:২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১০

আম্রিকা: নতুন জীবনের সাথে নতুন ব্যথা

আজ দুপুরে আম্রিকান এম্বাসী থেকে পাসপোর্ট হাতে পাইলাম; একটু ভারী, ভিসা স্টিকারটার জন্য।
সেই সাথে মনটাও একটু ভারী, সব প্রিয়জন কে একসাথে হারাবার আগাম ব্যথায়।

মাথা আনন্দে গিজগিজ করছে; আর মন ব্যথায়।
দ্বিত্বতা মানুষের সব কিছুতেই; চাওয়া-পাওয়া সব কিছুতেই। আর মানুষেরই বা কি করা; মানুষের DNA টাই তো double-helix 

কিছুদুর রিক্সায় এসে এরপর উঠলাম ঢাকার ঐতিহ্য ৬ নম্বর বাসে। বাস চললো ধুকে ধুকে। কিন্তু এখন ২৭-বছর ধরে চেনাজানা ঢাকার সবকিছুই কেমন যেনো ভাল লাগতে শুরু করেছে। এমনকি রাস্তার জ্যাম, ঘামে ভেজা মানুষগুলার বেছে থাকার সংগ্রাম, একটা বাচ্চা মেয়ের বাসে উঠে স্লিপ বিলিয়ে কাঁচা ভাষায় সাহায্য চাওয়া, গুলশান লেক থেকে ভেসে আসা বাতাস; সবকিছুই। মানসিক এই প্রতিক্রিয়াটার কি কোন নাম আছে? কি বলা যায়, Pre-emptive Nostalgic Syndrome (PNS)? জ্ঞানী-গুনী কারো জানা থাকলে একটু বইলা দিয়েন।

এখন হুরাতাড়া করে সব গোছাও, শপিং গুলা সারো, টিকেট কনফার্ম করো, ব্যাগ গোছাও, কি নিবা কি ছাড়বা ঠিক করো... ইত্যাদি ইত্যাদি।

এম্বাসী ভিসা দিতে দেরি করলো অনেক; তাই তাড়াহুড়া।
কিন্তু এই তাড়াহুড়ার ভাঁজে-ভাঁজে কি প্রিয়জন হারানোর ব্যথা ভুলে থাকার অভিনয় নেই ?


[আমার এই লেখাটা প্রথম প্রকাশিত হয় সচলায়াতনে অতিথি লেখক হিসেবে ]

Sunday, August 8, 2010

(এক যুগ আগে) এক রাতে

ছাদের উপরে সিঙ্গেল খাটে
দু’ চোখে একটু ঘোর,
ঘোরে ঘোরে কেটে সারা এক রাত
কেটে হয়ে গেলো ভোর।

আকাশটা জুড়ে ছেড়াঁ ছেড়াঁ মেঘ
চাঁদ ঢেকে দিতে চায়,
কিন্তু এমন ষোলকলা চাঁদ
মেঘে কি ঢাকতে পায় ?

স্বপ্নের কোন্ দেশে থেকে যেন
বইছে মাতাল হাওয়া,
চেতনের এক গভীর অতলে
নিশ্চুপে ছুয়েঁ যাওয়া।

দুচোখে আমার স্বপ্নের মদ
ঢালে কোন্ অচিন প্রিয়া,
কি যে জুয়া এক খেলতে চায়
ছেঁড়া ছেঁড়া এ মন নিয়া।

আমার উদাস মনটা তখন
শরত্ মেঘের মত,
পেঁজা পেঁজা হয়ে যায় উড়ে যায়
স্বপ্নের দেশ কত।

ছেঁড়া মেঘগুলো যাযাবর যেন
নামতে তারা না পায়,
এতটুকু জায়গা খুজিবার তরে
সমুখ পানেতে ধায়।

সারা শরীরে নেশা ধরে যায়
মৃদু বাতাসের তোড়ে,
চোখ দুটি গাঢ় আবেশিত থাকে
রঙ্গিন স্বপ্ন ঘোরে।

নীল চাঁদোয়ার মাঝখানে ভাসে
ধবল মেঘের ভেলা,
মাঝখানে তারা চাঁদ নিয়ে খেলে
রংবৃত্তের খেলা।

ফ্যাকাশে মেঘের মাঝখানে ভাসে
আলো আলোময় চাঁদ
চাঁদটিকে যেন জরিয়ে রেখেছে
রং বৃত্তের ফাঁদ।

প্রাণমোহিনী একটুকু সুধা
একটু স্বপ্নরস,
অজানার পথে কেমনে করেছে
প্রাণ মন মোর বশ।

ওদিকে আমার নেশাময় মন
অসীমের পানে ধায়,
বুঝেও বুঝতে পারলাম না কেন
কি খোঁজ সে পেতে চায়।

সব হারিয়েও পেতে চায় সে
অমরলোকের স্বাদ,
রাহবার হয়ে এসেছে যেনো এ
আলোক রাতের চাঁদ।

কোন্ সে এক অচিন জগতে
হৃদয় আমার ধায়,
অচেনা এক পরমের রসে
মরম রঙিনে নায়।

সারা দিনমান কত ব্যস্ততা,
নিজকে হারায়ে খুঁজি,
এতটুকু কাল খুঁজিয়া না পাই
পরমের তরে নুজিঁ।

আমারে এখন টেনে নিয়ে যায়
আলোক চাঁদের ফাঁদে,
মনখানি মোর ভাসিয়ে দিলো
আবেশ রাতের স্বাদে।
এটুকুর লাগি সারা দুনিয়া
তারে খুঁজে খুঁজে কাঁদে।



হেনকালে যেন চেতন জুড়িয়া
ভোরের আযান পড়ে,
সারা জীবকূল সাড়া দিয়ে উঠে
মৃদু মৃদু কলে বরে।

এতটুকু রাতই জীবন ব্যপিয়া
জীবন ধন্য করে,
ক্ষুদে এ জীবনে স্মরণে পরিয়া
আবেশে বুকটি ভরে।

-- kmonsoor

    রচনা: ৮ ই আগস্ট, ১৯৯৮
নামকরণ: ৮ ই আগস্ট, ২০১০
           @ মুহাম্মদপুর, ঢাকা

------------------------
কবিতা টা আমার পছন্দের ফর্মায় দেখতে এইরকম:
(এক যুগ আগে) এক রাতে