Showing posts with label ব্যক্তিগত. Show all posts
Showing posts with label ব্যক্তিগত. Show all posts

Wednesday, June 16, 2010

যখন তুমি থাকবে না, মা

শীতের রাতে হিম প্রহরে
তোমায় পড়ে মনে,
দেখে তুমি চাদর দিতে
জড়িয়ে সযতনে।


জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকে
মাগো যখন ডাকি,
তোমার হাতের মাথা ধোয়া
কেউ পারবে নাকি?


কত জনেই ধুলো মাথা
কেউ পারেনা কেন,
পানি তোমার হাতের ছোয়ায়
জ্বর কেড়ে নেয় যেন।


তুমি যখন মারতে মাগো
ব্যথা সাথে সাথে,
এত বছর পরে বুঝি
আদর ছিলো তাতে।


আমার পেটে লাগলে ক্ষুধা
দুঃখ তোমার বেশী,
তুই কি খাবি? তুই কি খাবি ?
রাধ‍ঁ চুলার পাশি।


তোমায় কত ভালবাসি
দেখতে যদি পেতে,
সাথে সাথে আমায় তোমার
বুকে জড়িয়ে নিতে।


শেষ প্রহরে কে মা আমায়
একটু দেখে যায়,
চোখ বুলিয়ে যায় যে খানিক
পরম মমতায়।


দুনিয়াতে আসার সময়
কষ্ট দিলাম কত,
বুকের দুধে হলাম বড়
কষ্ট অবিরত।


ঋণ থাকা তো ভালো না মা
সারা দিনের বোঝা,
কিভাবে তোমার শুধবো এ ঋণ
বলে দাও মা সোজা।


মাফ করে দাও মা’রে আমায়
মমতার এ ঋণ,
আমার দেবার সব ক্ষমতা
ভালোবাসায় লীন।


যখন তুমি থাকবে না, মা,
কেমনে আমি রব,
তোমার কোলে শুয়ে থাকি
তখন কোথায় শোবো।


তুমি তো মা চলে যাবে
মরণের ঐ পাড়ে,
বুকের মাঝে কান্না চেপে
রাখবো কোথায় তারে।


তখন তো আর বলবে না কেউ
দুপুরে কি খাবি ?
বলবো কাকে, অমুকটা চাই
তমুক আমার দাবি।


আমার বুকে তোমার আসন
কেমনে রবে ফাঁকা,
তুমি ছাড়া এ ভুবনে
থাকবো মাগো একা।


যদি আমি যাই গো চলে
মাগো তোমার আগে,
মাথাটা খানিক জড়িয়ে রেখো
গলার নিচের ভাগে।


তোমার চোখের নোনা জলে
গোসল আমায় দিও,
কাফনের ছোট টুকরা খানি
তোমার আচল নিও।


কত ভাগ্য যদি আমি
মরি তোমার সাথে,
দু’কবরে থাকবো পাশে
সাথী দিবা রাতে।


চাঁদের আলো চুমবে দু’গোর
চুমবে একই সাথে,
দু’কবরের ঘাসগুলো সব
হাসবে চাঁদনী রাতে।


মুক্তো মুক্তো শিশির বিন্দু;
পরবে শেষের রাতে।

Monday, April 19, 2010

ভোররাইতের খা’ব


সেইদিন ভোররাইতে একটা খা’ব দেখলাম...মুটামুটি বৃত্তান্ত এই রহম...
দেহি কুনো এক গ্যাঞ্জামে পইড়া আমি দ্যাশ-ছাড়া; গিয়া ক্যামনে ক্যামনে পড়ছি এক আজব দ্যাশে। পাবলিকের চেহারা সুরত চায়নীজ-চায়নীজ; তয় মুসলমান এলাকা; কিছু আবার হুজুর ও আছে। আমি ক্যামনে ক্যামনে যাইয়া উঠছি এক বাড়িতে ..মাটির থিকা ইট্টু উপরে... বাইর সাইড টা আবার মাচার মতন. দুই জন ব্যাটা মানুষ বহা।

তাগো থিকা শুনলাম (ভাষা কিন্তু অচিন, মাগার বুঝতাসি, স্বপ্ন বইলা কথা), এই দ্যাশে সরকার পাব্লিকেরে নামাজ-কালাম পড়তে দেয়না। আইনতঃ নিষিদ্ধ পুলিশে সাইজমত পাইলে জেল তো নিশ্চিত, জীবন ও চইলা যাইতে পারে, অনেকের নাকি গেছেও।
নামাজের টাইম হইয়া গেসে (কুন অক্ত মনে নাই, তয় আসর/যুহর হইবো, কারণ বাইরে তহন দিনের আলো)। এই দুই-জন আবার নামাজী পাবলিক, তার উপর জামাতে পড়ব, বুঝেন ঠেলা. আমার কইলজায় কাপন উইঠা গেছে (পুলিশের হাতে) মরণের ডরে।

যাক, হ্যারা আর আমি আশপাশে ভালো কইরা দেইখা নিলাম। কেও নাই দেইখা আমরা তিনজনেই জামাতে খাড়াইলাম মাচার উপরেই, হেগো একজন ইমাম সাব হইলো, মুরুব্বি মতন।

ইমাম সাবে কেরাত পরলো একদম মিটি-মিটি সাউন্ডে (তয় শুনা যায়), যদিও দিনের বেলার নামাজে ক্কেরাত হয় চুপে-চুপে, কিন্তু স্বপ্ন বইলা কথা। নামাজে খাড়াইয়া আমার কান্দন আইলো, আহারে, এত ডর-ভয়ের মইধ্যে কত কষ্ট কইরা (ডরে তহনও বুক কাপতাছে) নামাজ পরতাসি, আর আমাগো দ্যাশে কত আরামে থাইকাও নামাজ ঠিক মতো পরি না।

নামাজের পর খেয়াল করলাম, আশে-পাশে চা, কলা ইত্যাদি খাওনের জিনিস। নামাজের আগেই নাকি আইনা রাখছিলো। (জিগাইলাম, নাকি হেরাই কইলো মনে নাই) জানলাম, এগুলা হইলো শো। যাতে কেউ আইসা এইখানে আমাগো দেইখা ফালাইলে কওন যায়, আমরা খানা-খাদ্য খাইতেছি, নামাজের কথা যাতে কেউ না বুঝে।

যাক, খাওনের কথা মনে নাই। একটা পাহাড়ি রাস্তা ধইরা কই জানি যাইতেছি দেখলাম,
রাস্তায় আরো লোকজন দেখলাম, সবই মুসলমান, ক্যাডায় জানি কইল “আমরা ইট্টু ইট্টু মান্দারিন চাইনিজ পারি”। আমার এক দোস্তর কথা মনে পরলো, ও বহুত দিন চায়নায় আছিলো, ভালো মান্দারিন চাইনিজ পারে। মনে হইলো, ও থাকলে আরেকটু কথা-বারতি কয়া যাইত এগো লগে.....

তারপরেই স্বপ্ন শ্যাষ।

ব্লগ স্বপ্ন কওনের জাগা না, এটা খা’ব-নামাও না। তয় আমি ক্যান কইলাম?

এহন নাই, তয় কিছুদিন আগেও চীন, রাশিয়ায় এই অবস্থা আছিলো, নামাজ-কালাম দেখলেই, ঠুস-ঠুশ, শ্যাষ. শুনছি, মানুষ-জন গর্ত কইরাও নামাজ পরছে. কিন্তু এহন এরম দ্যাশ আছে, জানা নাই।
আসল কথাডা হইল, মুসলমান যারা স্বীকার যায় না, বা নামডা মুসলমান হইয়া গ্যাছে দেইখা মনে দুঃখু, হেগো কথা বাদ দিলাম আপাততঃ। (ব্লগের টাইটেল দেইখা হ্যারা ঢুকেই নাই অবশ্য.. ;) )
আপাততঃ, যারা স্বীকার যায় আমগো মইদ্দে, জুমায়-জুমায় মসজিদে যায়, রমজানে রোজাও রাখে মাঝে-মইদ্দে, হেগো কথা কই। আপনেগো বাসা/অফিস এর পাশেই হয় মসজিদ, নয় নামাজ ঘর, নয় prayer room আছে, কুনো ঝুট-ঝামেলাও নাইকা, আপনের আশপাশে কতজনে পাঁচ অক্ত নামাজ পরে, আর আপনে ?
আর যারা পাঁচ অক্ত পরিও, ক্যামনে পরি ? মনে অয়, আল্লায় ঠেইকা গ্যাছে আমগো কাছে; তাত্তারি নামাজ পইরা হ্যারে বিদায় কর্। আপনেই কন আপনের নামাজ আপনের নিজের পসন্দ হয় ? তাইলে এরম "ঠ্যালা মারা" নামাজ আল্লার ক্যামনে পসন্দ হয়? আর যদি পসন্দ না হয়, আল্লায় কি খুশি হয় না ব্যাজার হয় ?
সামুতে যারা আছেন, কেওর বয়সই তো ২০/২২ এর কম না. ২০৪০/২০৫০ এর ভিতরে তো সব ঠুশ. কনফার্ম. যার আরো আগে সিরিয়াল দিবেন, হ্যাগো তো কথাই নাই।
আর বাইচা থাকতেও তো, প্যাটে এট্টু জোরে মোচড় দিলে আর বিছনা থন উঠবার পারি না, এমুনকি নিজের ঠ্যাং টাও খাড়া করবার পারি না।
আল্লায় তো আপ্নেরে খারাপ রাখে নাই, আরামে বইয়া বইয়া ব্লগ পড়তাছেন... হের বদলা কি এমনে দিতাছেন :(
কোমরে জোর পাইলেই আমরা এত ফালা-ফালি করি ক্যান ? ইট্টু ট্যাকা হইলে আর নয়ত ইট্টু আরাম পাইলেই আমগো মাথা নষ্ট হইয়া যায় ক্যান ?